হলিউডের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। অভিনেতার প্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন আরজে মিটে। সিরিজটিতে ব্রায়ান ক্র্যানস্টন অভিনীত ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া সিরিজটির পাঁচটি সিজনেই অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।
ভিন্স গিলিগানের নির্মিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম প্রশংসিত অপরাধনির্ভর নাটক হিসেবে পরিচিত। সিরিজটিতে মিটের অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।
বাস্তব জীবনেও আরজে মিটে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন। নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতাকে অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার এবং বিনোদনজগতে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনে জন্মগ্রহণ করেন মিটে। জন্মের সময় মস্তিষ্কে ক্ষতির কারণে তার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। তিন বছর বয়সে তার সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হয়। পরে তিনি দত্তক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে নিজের অভিনয়জীবনের বাধা হতে দেননি তিনি। বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পর্দায় প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বিনোদনজগতে প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তাদের সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনেও কাজ করেছেন তিনি।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর সাফল্যের পরও বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেছেন আরজে মিটে। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’, ‘দ্য রিকল’, ‘দ্য ওক রুম’ এবং নেটফ্লিক্সের সুপারহিরোভিত্তিক সিরিজ ‘দ্য গার্ডিয়ানস অব জাস্টিস’।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের দাতব্য সংস্থা মিটে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশ নেন তিনি।
মৃত্যুর আগে নতুন সিনেমা ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’-এর প্রচার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন মিটে। সিনেমাটিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ছবিটির প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আলবুকার্কে একটি অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ছিলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা কেনেডি সুয়ারেজের সঙ্গে ২০২৫ সালে বাগ্দান হয় তার। ২০১৮ সালে তাদের সম্পর্কের শুরু।
তার অভিনয়, প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ এবং বিনোদনজগতে অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা ভক্তদের স্মৃতিতে থেকে যাবে।