
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অর্থের বিনিময়ে নবজাতককে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নবজাতকটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি চুক্তিপত্রও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম থানার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের বাসিন্দা খাদিজা আক্তার (২১) গত ২৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলেসন্তান প্রসব করেন। শিশুটির পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাদিজার সঙ্গে আবির হোসেনের (১৯) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবির তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ। এর ফলে খাদিজা গর্ভবতী হন। পরে বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, নবজাতককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে কয়েকজনের যোগসাজশ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নজরে আসার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম ও রিপনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত চুক্তিপত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।