
ঢাকা: রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সামরিক পাইলট ও কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি যে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন,
[caption id="attachment_483" align="alignnone" width="977"]
তুরাগ থেকে উদ্ধার মোটরসাইকেল[/caption]
সেটি টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
[caption id="attachment_481" align="alignnone" width="656"]
নিখোঁজের আগে দীপের সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ[/caption]
এ ঘটনায় তার সঙ্গে সর্বশেষ অবস্থান করা শাহরিয়ার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর কারণ কিংবা এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, তুরাগ নদে যেখান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার কাছাকাছি এলাকা থেকেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
[caption id="attachment_482" align="alignnone" width="1012"]
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় একসঙ্গে বের হতে[/caption]
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে শাহরিয়ার দীপ নামে এক তরুণের সঙ্গে বের হন তাহসিফ। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
তাহসিফের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন তাহসিফ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের কাছ থেকে ‘আম্মু আমি আসছি’ লেখা একটি বার্তা পান তারা। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোর সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
তাহসিফের সঙ্গে থাকার বিষয়ে শাহরিয়ার দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তারা একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে মোটরসাইকেল মেরামতের পর দুজন রুয়াপ কমপ্লেক্সে একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান।
পরে দীপ নিজের কাজে চলে যান এবং বাসায় ফিরে আসেন বলে জানান। এরপর থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে শাহরিয়ার দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি।
পিবিআই জানিয়েছে, দীপের দেওয়া বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসব তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করছেন।
তাহসিফের মৃত্যুর আগে তার বাসার নিচে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ও হাত মেলানোর একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে।
ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সবুজ পাঞ্জাবি পরা তাহসিফের সঙ্গে ওই ব্যক্তির দেখা হয়। হাত মেলানোর পর তারা পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।
তাহসিফের পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন।
এর আগে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের আশঙ্কা, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন তাহসিফ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।
তার বাবা আরও জানান, রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় এর আগে কখনো যাননি তাহসিফ।
তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
তাহসিফের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তার বাবা জানান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময় আরও কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মোটরসাইকেল উদ্ধার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পিবিআই।