
নিহতরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকার মাজেদুল ইসলাম সুমন (৪৬), ফতুল্লার কাশিপুরের ইয়াসিন (২১) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম।
সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর দক্ষিণ সরদারপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি মহসিন ভুঁইয়ার ছেলে এবং একটি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক ছিলেন।
সুমনের ভাই সুজন ভুঁইয়া জানান, দুই দিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে সুমনের স্ত্রী সাহেদা সুলতানা বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে যান। পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে সুমনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশের ধারণা, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফতুল্লায় যুবকের মরদেহ, মারধরের অভিযোগ
শনিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফতুল্লার কাশিপুরের মধ্য নরসিংহপুর এলাকার হাজীপাড়ায় একটি বাড়ির গেটের সামনে ইয়াসিনের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে এবং ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে কাচ চুরির অভিযোগে শান্ত, জনি দেওয়ান ও ইমরান নামে তিন যুবক তাঁকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের ঘটনার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে
এদিকে শনিবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাঁর বোনকে নির্যাতন করা হতো। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অর্থের জন্য চাপও বাড়ে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় বোনের সঙ্গে কথা বলার সময় অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
পরে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ফারজানার মৃত্যুর খবর পান তাঁর ভাই। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী নাজমুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ফারজানার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, পৃথক তিনটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।