নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাসুদ রানা (৩২) ও মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
জানা যায়, বাদী খলিলুর রহমানের মালিকানাধীন হোন্ডা ড্রিম ওয়ান মোটরসাইকেলটি তার জামাতা মো. শাহীন (৩০) ব্যবহার করতেন। গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি মোটরসাইকেলটি সাপাহার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন লাবনী সুপার মার্কেটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শরিফুল গিফট কর্নারের সামনে রেখে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান।
জুমার নামাজ শেষে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলটি নেই। অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব অরূপের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা ও ডাটা অ্যানালাইসিস করা হয়। এর পাশাপাশি সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন মো. মাসুদ রানাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা গত ৩০ অক্টোবর সাপাহারের লাবনী সুপার মার্কেটের ভেতর থেকে উক্ত মোটরসাইকেলটি চুরি করার কথা স্বীকার করেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়ের মূল হোতা হিসেবে সন্দেহভাজন মো. শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মো. মাসুদ রানার বাড়ি বগুড়া জেলায়। তিনি পেশাদার চোর হওয়ায় এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস না করে বিভিন্ন থানা এলাকায় একাধিক বিয়ে করে ভাসমানভাবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। তার নামে সাতটি চুরির মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।