Oplus_131072
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে হুইপ দুলু বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ পথচলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর মতে, ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর দেশের মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে কালুরঘাট থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘোষণা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। ওই সময়ের পরিস্থিতিকে তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও আধিপত্যবাদী তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে।
বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা ব্যাখ্যা করে দুলু বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও ভাষা নির্বিশেষে সব নাগরিককে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনই এ ধারণার মূল ভিত্তি।
ইতিহাসের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও নেতৃত্বের অবদান যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইতিহাস বিকৃত করে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অবদান খাটো করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী দিনের রাজনীতি প্রসঙ্গে হুইপ দুলু বলেন, প্রতিহিংসা, আক্রমণ ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতীতের রাজনৈতিক বিরোধে আটকে না থেকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন। সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নতুন করে যেন আধিপত্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
গার্মেন্টসশিল্পের প্রসঙ্গ তুলে দুলু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। নারীদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে নাটোরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান হুইপ দুলু। প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।